Found poem /
উৎসব
সিনেমা আর উৎসব।
অনেকের কাছেই প্রথমটা যাপন। পরেরটা উদযাপন।
প্রথমটা কর্ম। পরেরটা তকমা।
প্রথমটা ধর্ম। পরেরটা মাজার।
প্রথমটা পণ্য। পরেরটা বাজার।
প্রথমটা আচার। পরেরটা অনুষ্ঠান।
প্রথমটা সাধনা। পরেরটা সিদ্ধিলাভের উছিলা।
সিনেমা জপের ও যাপনের যেমন আছে নানান ধরন, উৎসব উদযাপন নিয়াও আছে নানান ধারণা।
উৎসবে নানান মানুষ আসে।
নানান ভেকে, ভাবে, ভঙ্গিতে।
তারা (সময় পাইলে) সিনেমা দেখে, দেখায়।
শোনায়। শুনে।
সেইখানে প্রচুর বলাবলি হয়।
ঘটকালি হয়। বেচাকেনা হয়।
সঙ্গী খোঁজা হয়।
হইতেই থাকে হওয়া-হওয়ি।
শিল্প-উৎসবের বাজারদর বাড়লে অনুপাতে বাড়ে বাজার-মনোনীত শিল্প-পণ্যের বেচাকেনাও।
উৎসবঘটিত তকমা গায়ে চাপলে শিল্পী নিজেরেও একটু বেচতে পারে।
এমনও নাকি হয় (নাকি এমনটাই হয়?), খালি বেচার মোহেই — নিজেরে হোক না নিজের উৎপাদিত পণ্য হোক — উৎসবের পিছনে ছোটা।
উৎসব দর্শনও তাই হইয়া উঠে আরেক ফিকির, উছিলা।
তবু যেন উৎসব নিয়া ভ্রম কাটে না।
তবু যেন কথার চেয়ে বেশি রূপকথা বাতাসে ভাসে।
তবু যেন সিনেমার চেয়ে উৎসবটাই বড় হইয়া উঠে।
এই হইয়া উঠার কলকাঠি নাড়ায় কে?
উৎসব নিয়া যত কানাঘুষা শোনা যায়, তার খোসার ভিতর কী?