Prose poem /
১০১.৮ / ডিয়ার সমপ্রেমী
ডিয়ার সমপ্রেমী,
আমিই সেই বক্তব্যহীন চারাগাছ যে বটগাছদের নার্সারিতে পাঠায়া বাথরুমে গিয়া সামরিক ঘ্রাণ নেয়। শক্তি অবিনশ্বর। পৃথিবী নশ্বর। আমি দম নিই। দম ছাড়ি। নিই। ছাড়ি। ধীরে। ধীরে। আরও ধীরে। শান্তি। শান্তি। শান্তি।
যে উঠতি-আঁতেল আড়ালে শিবের পাছা মাইরা তারই গীত গায়, তারে আমি কিনতে চাই। যে বন্ধুত্বের নামে প্রকাশ্যে কমিশন খায়, তারে, আমি কিনতে চাই। এর কোনো কারণ নাই। করুণা নাই। আছে এক এগজিসটেনশিয়াল বোধ, আমি তারে পারি না এড়াতে। না ঘ্রাণে। না ঘৃণায়। এই নশ্বর জীবনের মানে শুধু তোমাকেই কেনা।
সম্মতি উৎপাদনের কারখানায় বেতন-অভুক্ত যে শ্রমিক সুখের ইমোটিকন বিলায়, তার ফোন ও ফেসবুক নাই। সে বলতো, এরা সুখের লাগি চাহে প্রেম প্রেম মেলে না। তাই নাকি মিলার ও মিনারের গান এত জনপ্রিয়। আমি শুনি, কেবল শুনি। তুমি কেমন করে গান করো হে গুণী। শুনতে শুনতে আমি হাজার বছর ধরে হাঁটি মালয়সাগর থেকে মীনাবাজারে। মীন দেখি। আহা, দোকানদার বেচে আমারই হারানো মগজ। ইকোনমিক্সের ফ্যারে ও ফাঁপড়ে আমার মগজ নিয়া বাড়ি ফেরে যে আত্মত্যাগী একটিভিস্ট, আমি তারেও কিনতে চাই রে, আলব্যের কামু। আমু? আমু? আমু? আমি আমি আমি। অহম অহম অহম। ওম ওম ওম। দাদা, আমি বাঁচতে চাই। এগজিসটেনশিয়াল ক্রাইসিস এখনও তোমার শিল্পরচনার অজুহাত রইয়া গেলো বুঝি। আহা শিল্প আহা ওম আহা চারা। বাড়া!
যদি তুমি বাঁচো, তুমি তোমার দেশ।
যদি তুমি নাচো, জের জবর পেশ।
ফলে যে চারাগাছ অকালে হারায় তার মগজ ও মোরালিটি, তারে ভিক্ষা দিয়া যে কোনো আশিক পুরুষ গুছাইতে পারে আখের। নক্ষত্রের রাফি তারে পারে ধর্ষণ করতে। আপোষহীন আলম অধিকার রাখে তারে ট্রমাটাইজ করার। রিলকে তাই চিঠির ফুটনোটে লিখে, ইনহি লোগো নে লে লিনা দোপাট্টা মেরা। বেচারা চারা বুঝি গাছ না?
সমপ্রেমী সমপ্রেমী, তোমার লিমিটেড ভোকাবুলারির দোহাই, আমি কোনো চারা-টারা না। আমি সেই নিঃসঙ্গ গ্রহ; ওই জ্যুঁপেরির রাজপুত্র; মুমূর্ষু এক মৃতদেহ। আমারে তুমি ছাইড়া দাও। তুমি জানলায় কী দেখো? ভবিষ্যতের স্মৃতি না অতীতের সোনালু ফুল? বর্তমানে আসো। বোর্ডে আঁকো অরৈখিক ডিফারেন্সিয়াল ইকুয়েশন। মুঝকো উড়ালে, মুঝকো ফাসালে। এমন দেশটি কোথাও খুঁজে পাবে নাকো তুমি। হোনেন হোসেন সাব, আপনি তিল বোঝেন কিন্তু তাল বুঝেন না। আমি সেই তালের পাখাই বেচবো আপনার কাছে। কারবারি না আমি ছোট ছোট? হিহিহি।
দেশাত্মবোধের কারবার ফুরাইলে আমি সেই দেশে যাবো গা যেখানে ত্রিভুজের তিন কোণের সমষ্টি একশো আশি ডিগ্রি না, দুই বিন্দুর মাঝের ন্যূনতম দূরত্ব সবসময় সরলরেখা না — মহাবিশ্বের এই জ্যামিতিবোধই আমারে বাঁচায়া রাখে। আমি, তারে পারি না এড়াতে।