Prose poem /
১০১.৯ / হোটেল রুম
আমি একটা হোটেল রুম। আবেগ নাই। আছে লাগোয়া টয়লেট। সাবানদানি। গরম পানির ব্যবস্থা আছে। যারা আমার কাছে আসে, তারা যাত্রাপথে ক্লান্ত থাকে। ঘামেও। স্নান শেষে এসি চায়। ইন্টারকমে কল করে খাবার চায়। খাবার দিই। চেকইন টাইমে বোতলজাত পানি দিই। কমপ্লিমেন্টারি ছাড়পোকা নাই। বেডশিট বদলাই। বাড়তি স্যান্ডেল থাকে। টিভিতে ডিশ। লোকাল চ্যানেল। ঈদের নাটক চলে। জানলার বাইরে। ভিতরে রিমোট আছে। টিপে কেউ কেউ। থাপড়ায়ও। রাতে। রুমের কোনায় ব্যাগ থাকে। বাহারি সাইজ। সংখ্যায় নগণ্য। সুটকেস মূলত। কী মেদহীন যাপন মানুষের। হোটেল যাপনের বাইরে মানুষ জীবনভর যা কিনে ও সংগ্রহ করে, তা বিলাসিতা। তবু তো কিনে। কার্ড দিয়া। ক্যাশে। লোনে। অর্থশাস্ত্র। তা নিয়া অনর্থক ভাবি। কারণ, যারা আমার কাছে আসে, তারা পর্যায়ক্রমে অসহায়, একাকী, কামুক ও দুখী আত্মা। ফলে মদ নিয়া আসে কেউ। খুব আবেগী হয় খাওয়ার পর। আমার নাই সেসব। যে আসে, আমি তার। যে যায়, তার গন্তব্য জিজ্ঞাস করি না। ওইসব দার্শনিক ডিসকোর্স। মেটাফিজিক্স। তবু কেউ কবিতা লিখে। ওয়াইফাই পাসওয়ার্ড চায়। হাত মারে। টিস্যুর বাক্স খোঁজে। চার্জ দেয় ফোন ও ল্যাপটপে। এটা সেটা, যে যা পারে। চলে গেলে কেউ রেখে যায়। নিজ নিজ মাল। ভুলে। কেউ নিয়া যায়। সাবান ও মিনিপ্যাক শ্যাম্পু। মূলত। কখনও টাওয়েলও। যাবতীয় আত্মত্যাগে গর্ববোধ করি না। কারণ গর্ব একটা বোধ; সুতরাং, আবেগ। আবেগে হোটেল চলে না। যখন লাগে, আসবেন। রুম নম্বর ১০১।