Prose poem /
১০২.৪ / কানাবগির ছা
কানাবগির ছা বাস করে ওইখানে। আর কানাবগি রিকশা চালায় ঢাকা শহরে, এইখানে। গুন্ডাচারি সিনেমা দেইখা এক রাতে সমাবর্তনে যায় ছা। সেখানে প্রিয়াঙ্কা চোপড়ার সঙ্গে দেখা। চোপড়া বলে, উইল ইউ ম্যারি মি? ছা স্পোকেন ইংলিশে দুর্বল বইলা উদাস হয়। তবু মনে মনে বলে, সহমত বোন। মুখে বলে, আমায় একটা সাদা ডিগ্রি দাও, যার রক্ত সাদা। প্রিয়াঙ্কার বর পায় ছা। ছায়ের ঘর আলো কইরা আসে ফুটফুটে এক ডিগ্রি।
ডিগ্রি হাগুমুতু করে, হামাগুড়ি দেয়, চোরডাকাতবাবুপুলিশ খেলে। সবই প্রশাসনিক চাপ। এইসব কইরা কইরা বড় হয়। একদিন ডিগ্রি তার বগি দাদাকে বলে : রিকশাওলা ব্রো, চাকা না চললে কাটবে উপোস বেলা। দাদা বলে, গ্র্যান্ডফাদার প্যারাডক্স কী, জানো? ডিগ্রি মাথা নাড়ে। দাদা ভাবে, ডিগ্রির লাগবে উচিত শিক্ষা। মুখে বলে, চলো রোহিঙ্গা ক্যাম্পে যাই।
বগি-ছা-ডিগ্রি অন্যের জমিজমা বেইচা জেটপ্লেন ভাড়া কইরা যায় ক্যাম্পে। শিক্ষা সফরে। ড্রোন উড়ায়ে প্রচুর ভিডিও করে তারা। রাতে এডিট শেষে আপ করতেই উপর থেকে নাজিল হয় টাকাবৃষ্টি। কানাবগি ভাবে, বাহ, ম্যাজিক রিয়েলিজম। ছা ভাবে, নাহ, জিওপলিটিক্সের ফাঁদ। ডিগ্রি কিছু ভাবে না। পরে ঋত্বিক ঘটকের বাণী মনে পড়ায় ভাবে। ভাবা প্র্যাকটিস করে।
অনেক ভাইবা ডিগ্রি সিদ্ধান্ত নেয়, এই টাকায় সে ফাটাফাটি ওয়েব সিরিজ বানাবে। কিন্তু মুশকিল হইলো, বোদ্ধামহলে স্বীকৃতি পাইতে বাংলাদেশের ভাবভাষ্কর্য কিভাবে হাজির করবে বিশ্বে? কানাবগি বলে, গার্মেন্ট বা কম্পুটার শ্রমিকের দেশ হিসাবে। ছা বলে, জঙ্গিবাদের; ফ্যাসিস্টের। ডিগ্রি বাপদাদার কথায় কান দেয় না। কারণ তাকে যাইতে হবে কানে; অন্তত বুসানে। তাই সে ঠিক করে, বাংলাদেশকে দেখাবে শরণার্থীদের আশ্রয়স্থল হিসাবে। হিসাব পাকা হওয়ায় জি বাংলা ডাকে তাদের। তারা লজ্জা পায়। ডাক শুনে কেউ না যাওয়ায় ডিগ্রি একলাই যায়। গিয়া দেখে, বাংলা কই; এ তো ফিজিক্স অলিম্পিয়াড। তবু নাম লিখায়, অংশ নেয়। গ্র্যান্ডফাদার প্যারাডক্স সমাধান করে। দেশের মুখ আলো কইরা অলিম্পিয়াড জিতে নেয় ডিগ্রি।
এইটাই তো হবার কথা। কারণ, ডিগ্রিকে যেতে হবে বহুদূর। সাপ্লাই দিতে হবে ইভিএম। সামনে পূজা। দেখতে হবে দেবী; অন্তত ট্রেইলার। দেবীর কৃপায় দেখা পায় দুই সাপ্লাইয়ারের। মুনকার আর নাকিব। মুনকার সাপ্লাই দেয় পেয়ারা। নাকিব দেয় প্যারা। প্যারা খেয়ে ডিগ্রি তার উচিত শিক্ষা পায়। বাকিটা পরে বলবো।