Skip to main content

Ishtiaque Zico

Prose poem /

১০২.৬ / কল থেকে সময়

বাথরুমে গিয়া দেখি, বেসিনের কল থেকে বাইর হইতেছে সময়। ভাবলাম, নিতান্তই সাহিত্যিক মেটাফোর। তবু খচখচানি যায় না। রাত তখন অনেক। কলের মিস্ত্রির নম্বর হাতড়াই। এটা কি মিস্ত্রি ডাকার মতো কোনো দুর্ঘটনা? ডাকলেও তিনি কি সাড়া দিবেন এই অসময়ে? হয়তো সময় গেলে ঠিক হয়ে যাবে সব। ভাবতে ভাবতে ঘুমায়ে পড়ি।

কত দিন, কত বছর ঘুমাইছি, সেই হিসাব অপ্রাসঙ্গিক। তবে উইঠা দেখি, ঘর ভাইসা গেছে সময়ে। প্রথমে বিরক্ত হই। পরে ভয় পাই। শেষে লজ্জা। কী বেহিসাবি সময় আমার!

এই মশকরার একটা অডিওভিজুয়াল বিহিত হওয়া দরকার। সময়কে ব্যাকগ্রাউন্ডে রাইখা সেলফি তুললাম। লঙ টেকে ভিডিও করলাম। লোকেশন সাউন্ড নিলাম। কলকল, কলকল, কলকল। পশ্চিমা নন্দনকলার নিরিখে এডিট করলাম। নাম দিলাম সিনেমা। নিজের কলার দিকে তাকায়া একসময় ঘিন্না ধরলো। নিজের উপর। সময়কে ধইরা রাখার কী সব অনর্থক আয়োজন।

ডিলিট দিলাম সব। ডিলিট, ডিলিট, ডিলিট।

তারপর খুব পিপাসা পায়। দোকানে যাই। পাড়ার দোকান। বাকিদের দেখাদেখি কয়েক বোতল বিশুদ্ধ সময় কিনি। ভ্যাটসহ। ঘরে ফিরবো বইলা বাড়ির দিকে রওনা দিই। আইসা দেখি, বাড়ি কই, এইটা তো বাসা। টিনশেড বাসা। জন্মাইছিলাম আমি এই ঘরে। বহু আগে। বহু আগে। সত্যি, এইটা ফ্যাক্ট না — ট্রু ফ্যাক্ট।

তবে সাহিত্যিকরা এইসব সস্তা ট্রিক দিয়া ফ্ল্যাশব্যাকে নিয়া যায়। আমি কেন মজবো এইসব ইশারায়? অহমে লাগে। শুধু আমি কেন, একাডেমিক ফুটনোটের দোহাই, ফ্রয়েড বা একোও এইসব ইশারা বরদাস্ত করতো না।

তাইলে কি সময়ই আমার জীবনের মেইন ভিলেন? টের পাইয়া কানলাম কিছুক্ষণ। না, অনেকক্ষণ। অনেক অনেক ক্ষণ। ম্যাসকুলিনিটি স্টাডিজের এক অধ্যাপক হাসতে হাসতে বলছিলেন, প্রকৃত নারীবাদী পুরুষরাই পারে এমন হু হু কইরা কাঁদতে। তাও পাবলিক স্পেসে। কাঁদো, পুরুষ, কাঁদো।

কান্দাকাটি শেষে প্রাক্তন সময় মাফ চাইলো। নিজ উদ্যোগে। ইশ, সস্তা বয়ফ্রেন্ডগিরি করতে আসছেন তিনি। গ্রিক ড্রামাটার্জির ফাঁদ। থার্ড অ্যাক্টের মামলা। আর আমিও এমন বেকুবের বেকুব। সময়ের উপর উল্টা মায়া হইলো। মেটাফোর হইছে বইলা কি সে পরাধীন মানুষ না? মাফ কইরা দিলাম। মাফে (বি)গলিত হইয়া সে রাস্তা মাপে। নতুন সম্পর্ক পাতাইতে।

এই তো, পারলাম। আমি পারলাম। আপনিও পারবেন। প্রাক্তন সময়রে মাফ করতে। আয়োজন কইরা তারে ধইরা রাইখেন না। অনুরোধ।