Prose poem /
১০২.৭ / নিষ্কাম ভালোবাসা
কিশোরবেলায় এক ঘনিষ্ট পত্রমিতাকে লিখি: নিষ্কাম ভালোবাসা চাই; দরকার হয় নুনু কাইটা ফেলবো। পাঠানোর পর উত্তরহীন থাকায় কয়েক রাত অবিরল স্বপ্ন দেখি। স্বপ্নের সিনপসিস এই, শুয়ে আছি ঈদগা মাঠে। নুনু কাটা হইছে ঘটা কইরা। রক্তাক্ত প্রান্তর। বাকিরা অদূরে নামাজ-কোলাকুলি শেষে টেবিল টেনিস খেলতেছে। কেউ আমারে খেলায় নিতেছে না। খেলার মাঠে টিভিতে বাজতেছে : আজ ভুলে যা তোর দোস্ত ও দুশমন।
চিঠির উত্তর আসে। প্রাপক আমারে বিনাবিচারে নিম্নবিত্তের বর্গে ফেলেন। চিঠির সাবটেক্সট বুঝেন নাই বইলা দাবি করেন। উপরন্তু একাউন্ট হ্যাক হইছে কিনা, তাও জানতে চান। অনুমান করি, হয়তো তাঁর মূল ভয় রক্ততে। নাকি নুনুতে?
নিম্নবিত্তের একজন না হওয়ার ভয়ে আমি বাংলা একাডেমি প্রণীত মধ্যবিত্তের অভিধান ঘাঁটি। শিশ্নের সন্ধান পাই। প্রাপককে প্রশ্নের উত্তর দিই : না —অ্যাকাউন্ট হ্যাক হয় নাই; হইছে টাইপো। হবে শিশ্ন।
আবারও উত্তরহীন রাত।
আবারও টেবিল টেনিস।
উত্তর আসে : গট ইউ, মাই প্লেটো। লেটস বি সৌলমেইট। নো পিনাস, নো ভ্যাজাইনা। বিটিডাব্লিউ, ইউ আর গুড অ্যাট বাংলা। কোন ম্যামের কাছে পড়ো? ফেরদৌসী ম্যাম?
কীসের ম্যাম, কিসের পিনাস। প্লাতো ডাকার আনন্দে পরদিন ঢাকা কলেজ শেষে নীলক্ষেতে ঘুরি। প্লাতো খুঁজি, পাই সরদার ফজলুল করিম। ছিড়াফাঁটা দর্শনকোষ। আর পাই ছোটদের রাজনীতি ছোটদের অর্থনীতি। নীহার কুমার সরকার। নতুন দুই অভিধান। কত নাম, কত পরিভাষা। নুনুহীন প্রেম থেকে তেজি তাদের ভাবনা। বগলে বই নিয়া ঘুরি। বন্ধুদের সামনে বই খুইলা পড়ি: দেখো, আমি দর্শন-রাজনীতি-অর্থনীতি পড়ি। বন্ধুরা দেখে না। তারা টেবিল টেনিস খেলতে যায় ব্রেকে। কলেজ শেষে পড়তে যায় প্রাইভেটে। আমারে নেয় না। আমি পড়ি ঘরে, টেবিলে, আব্বুর কাছে। আর অভিধান থেইকা শিখি নতুন নতুন শব্দ। আব্বুরে মনে হয় প্রোলেতারিয়েত। নিজেরে প্রোলেতারিয়েতের বাচ্চা।
রাত যায়; দিন গড়ায়। দোস্ত ও দুশমন, কারও চিঠির জবাব দিই না। ভরা টেম্পুতে বইসা খালি ভাবি। ভাবতে ভাবতে সাইন্স ল্যাব হয় মতিঝিল, কিশোরবেলা হয় যৌবনকাল, মলয় বাতাস হয় মলয় রায়চৌধুরী, সুমন চট্টোপাধ্যায় হয় জেমস। ভাবনা থামে না।
মন শান্ত করতে অনুসিদ্ধান্ত টানি :
ক. কামের জন্ম ঘিলুতে; নুনু উছিলা মাত্র। এবং ওভাররেইটেড।
খ. যারা নুনু শব্দ ঘৃণা করে, তারা প্রকাশিত বুর্জোয়া।
গ. যারা নুনুকে নুনু বলে তৃপ্তি পায়, তারা হয় প্রোলেতারিয়েত নয়তো লুকায়িত বুর্জোয়া।
ঘ. যারা নুনুকে শিশ্ন বলে তৃপ্তি পায়, তারা হয় বাংলা একাডেমির খাদেম বা ভাষার পুলিশ।
ঙ. যারা নুনুকে পিনাস ও ভোদাকে ভ্যাজাইনা ডাকে, তারা উপনিবেশের দালাল বা ইংরেজ।
ফলে আমার রাগ হয়। সমবয়েসী পত্রমিতার উপর। তিনি কি তবে প্রকাশিত বুর্জোয়া? উপনিবেশের অচেতন দালাল? নিজের উপরও রাগ হয়। সিদ্ধান্ত নিই, পত্রমিতালী বাদ। নতুন মিশন : বিদ্রোহ করবো; বিপ্লব আনবো। কিন্তু নিজের লুকায়িত বুর্জোয়া চরিত্র ধরা পড়ায় কিম্বা কামের তাড়না না এড়াইতে পারায় তা করা হয় নাই। যেমন হয় নাই দৈনিক পেশাব করার লোভে আমার নুনু কাটাও।
প্রাক-নির্বাচনী সংলাপের স্যাটায়ার নাই এই লিপিতে। সিনেমার সঙ্গে নিষ্কাম প্রেম তৈরির পুরাণও না। কিশোরবেলা এবং শুধু কিশোরবেলাই, কসম।