Prose poem /
১০২.৮ / ধরো একদিন
ধরো একদিন ঘুম ভাইঙা দেখলা, তুমি মইরা গেছো। ডেঙ্গু জ্বরে। ঘুমের ঘোরে। ফুসফুস ক্যান্সারে। এনকাউন্টারে। তোমার মিলাদে শোনানো হইলো মাহমুদ দারবিশের কবিতা। তারপর ধরো, তোমার প্রতি-উপন্যাসের খসড়া নিয়া ঘুরলাম প্রকাশকের দপ্তরে। কুমিল্লা থেকে রামাল্লা। পরে নিজ খরচে ছাপলাম যা ছাপার। ধরো, চার বিড়ালকে উৎসর্গ করা হইলো তা। তাদের খাওয়ানো হইলো পেটভর। কেউ অণ্ডকোষ চাইটা দোয়া করলো তোমার জন্য।
অথবা ধরো, আমি। মইরা গেছি। ফাঁসিতে। বেদম কাশিতে। সড়ক দুর্ঘটনায়। উভপ্রেমী হবার দায়ে। মরণপূর্ব শখ পূরণ করতে মেডিকেল ইন্ডাস্ট্রিতে দেহদান করলা। দেহের অবশেষ, ভাগশেষ, যদি থাকে। ধরো, অপ্রকাশিত ভিডিও পাইলা হার্ডড্রাইভ ঘাঁটতে গিয়া। সিনে উৎসবে, অনলাইন বাজারে জমা দিতে শুরু করলা তা। সবাই তারিফ করলো, কিন্তু কেউ নিলো না। পরে নিজ খরচে বানাইলা একটা অনলাইন কবর — ইকমার্স ওয়েবসাইট। সেখানেই দেখা গেল যা দেখার। বহুদিন পর হয়তো কেউ জানাইলো গোপন কথা কোনো। মামুলি।
ধরো, কেউ কারও ঘুম ভাঙাইলাম না। যদিও জীবিত। যদিও খোয়া গেছে আমাদের হাত, পা, কান কিম্বা কিডনি। হারায়া গেছে তা পেট্রোল বোমায়। থ্যালাসেমিয়ায়। হেমোরেজিক স্ট্রোকে। ঘূর্ণিঝড়ে। ভূমিকম্পে। লঞ্চডুবিতে। বিচারকের রায়ে। বিনাবিচারে।
অথবা ধরো, যদি ঘুম ভাঙে, বাইছা নিতে পারি আজীবন স্বেচ্ছামৃত্যু। মেজাজ ফুরফুরা থাকলে চিঠি লিখতে পারি জাতিসংঘ বরাবর। অবিশ্বস্ত ঈশ্বরের কাছে। অমরত্বের বড়ি আবিষ্কারের আবদার কইরা। প্রথা থেকে পালায়া গইড়া তুলতে পারি প্রথামুক্ত থাকার সামাজিক আন্দোলন। অকারণকে কারণ বানায়া খেলতে পারি একটিভিজম। সময়ের সাথে কাটাগোল্লা খেলা সব। ধরো। ধরতে পারতেছো তো?
না পারলে ছাড়ো। পাদ, ঢেকুর, দম, সংসার, কণ্ঠ, কাপড়, টাকা, খোলস, নেশা, ব্রাউজিং, শুদ্ধতা, ইতি ও আদি। ধরা ও ছাড়ার তফাতে কী প্রমাণিত হয়? ছাড়ো সভ্যতার খুচরা ও পাইকারি বোঝা যত — পোশাক, ব্যাকরণ, কী-খবর-কেমন-আছেন, টক শো, টুথপেস্ট, জাতীয়তাবাদ, তেঁতুলের স্বাদ, রুপালি গিটারের শোক, বিশ বছর পূর্তি, তফসিল ঘোষণা ও মণিপুরি সাহিত্য সংসদ। ছাড়ো বাড়াবাড়ি যত — বেলা টার, বেগম আখতার, ঋত্বিক ঘটক, জহির রায়হান, সুবিমল মিশ্র, কোয়ান্টাম বিড়াল, সোনাম কাপুরের ওয়েডিং, রেটরিক হর্ন। বাক্য শেষে সামান্য যতিচিহ্নও যদি বাড়াবাড়ি লাগে তারেও ছাড়ো, ছাড়া প্র্যাকটিস করো