Skip to main content

Ishtiaque Zico

Prose poem /

১০২.৫ / ছুটকির বিটকয়েন

নতুন আরডুইনো প্রজেক্টের স্ক্রিপ্ট নিয়া গুতাগুতি করতেছিলাম। ছুটকি দৌড়ায়া আসে। হাতে মাটির ব্যাংক। বলে, বিটকয়েন দাও তো। দিলাম। শূন্যে হাত মুঠ কইরা। সে হাসে। নাকে নাক ঘষে। তার ইচ্ছা জানায় ফিসফিস কইরা। এগুলা দিয়া আমি চোরাই বইয়ের অনিয়ন সাইটে ঢুকবো। সিক্রেট উইকিলিকস নামাবো, বুঝলা। লিবজেনে নাই; খুঁজছি। ড্রিম মার্কেটে পাইছি।

সে আমার চোখ পড়ার চেষ্টা করে। পড়তে দিই। তার কথায় শুরু হয় ঝাঁঝ। শোনো, তোমাদের জেনারেশনটা না বেশি জাজমেন্টাল। ডার্ক ওয়েব শুনলে ভাবো কী না কী। ডার্কনেস নিয়া প্রেজুডিস সব। বিগ ব্যাং শুনলে মানুষ যেমন ভাবে বিকট আওয়াজ আর কি!

আমি হাসি। সে রাগে। ও, তুমি ভাবো আমি বুকপর্ন করি?

শব্দটা পরিচিত লাগে। মনে করার সময় দেয় না ছুটকি। ব্যাখ্যা শুরু করে। ধরো, তুমি কয়েকটা পপ-সাইন্স, পপ হিস্ট্রি কিসিমের ইবুক নামাইলা। তারপর সেই বইয়ের ফ্ল্যাপ বা কাভার পোস্ট করলা। কয়েক লাইন লিখলা ফেসবুকে, ইনস্টাগ্রামে। রেটিং দিলা। রেকমেন্ড করলা। নিজেরে উদার প্রমাণ করতে ডাউনলোড লিংক শেয়ার করলা। মানুষ ভাবলো, তুমি কত ডিপ; বইপোকা। আসলে সব সারফেস জ্ঞান। এই বুকপর্ন নেশারুদের দৌড় উইকি, কোরা, ব্রেইনপিকিংস আর গুডরিডস পর্যন্ত। ইনফো কনজাম্পশন সব। একটু দম নেয় সে। মাপা বিরতি।

আমি তাকায়া থাকি তার দিকে। সে আমার ঘিলুর উপর ভরসা পায় না। সিনেমার উদাহরণ টানে। যেমন ধরো, মুভিপর্ন। ফেসবুকে গেলেই দেখবা। অনেকে নামী পরিচালকের সিনেমার পোস্টার আর সিনেমার স্টিল ফ্রেম আপলোড করে। দেখায় যে তারা কত সিনেমার রসিক। কত না বুঝনেঅলা। কত না অর্গাজম। এই দেখানিপনা তোমরা সবাই করো। অন্যেরটা ধরো। নিজেরটা স্বীকার করো না। তোমরা সবাই সারফেসে মইজা থাকো। সারফেসটা মুখোশ। ডিপ বা ডার্ক ওয়েবে গেলে মানুষের আসল চেহারা পাবা।

সে একটু বিষণ্ণতার ভান করে। আচ্ছা, বই-সিনেমা-জ্ঞান জিনিসগুলা কেমন ওভাররেটেড না? আমি চুপ থাকি। ছুটকিও। একসময় ইতস্তত কইরা বলে, রেড রুম কী, জানো? আমি জানি না। মাথা নাড়ি। সে বলে, তুমি একটু ব্যাকডেটেড আছো। হজম করতে পারবা না। থাক। তোমার জন্য গুগলই ভালো। বড়জোর ডাকডাকগো। হাসে। জোর কইরা হাসি।

সে শূন্যে মদের গ্লাস ঢালে। খায়। মাতালভঙ্গিতে বলে, জানো, কোনো মায়া নাই এই ইউনিভার্সে। সব মায়ার অভিনয়; এবসার্ডিটির চূড়ান্ত; অতিমাত্রায় উদ্দেশ্যহীন যাপন। সূর্য বোরিং। মিল্কি ওয়ে বোরিং। মানুষ বোরিং। সিসিফাসের হ্যাপিনেস বোরিং। এমনকি আত্মহত্যাও বোরিং — মিনিংলেস। মাল্টিভার্স সত্যি হইলে নিশ্চয়ই কোনো না কোনো মিনিংফুল মহাবিশ্ব পাওয়া যাবে। সেইখানে আরডুইনোর প্রাণ নিয়া কোনো সন্দেহ থাকবে না, তাই না?

স্বস্তি পাই। কৃত্তিম ঘিলুর প্রাণী মনে হয় না তারে আর। সে আমার চোখ পড়ার চেষ্টা করে। পড়তে দিই। সে আমার হাত রাখে হাতে। বলে, তুমি কি হবা আমার জগদীশ চন্দ্র বসু?

আমি হাসি। ছুটকি হাসে। সে জানে, আমি সারফেস মানুষ। আমি জানি, সে স্ক্রিপ্টেড।