Field note /
করোনা-সচেতন প্রজাতি চিনার উপায়
করোনা নিয়া মিম-মশকরা শেষে যারা গোপনে সাবান দিয়া হাত ডলে। যারা পাবলিক প্লেসে কাশি আসলেও করোনা-শেমিং ভয়ে চাইপা যায়। যারা হাঁচি আসলে জামার হাতায় মুখ লুকাইতে জানে। ঘরে টিস্যুর পোটলা জমা রাখে। আগাম বাজারসদাই সাইরা রাখে। যারা মাস্কের ভেদ নিয়া জানে। যারা কোয়ারেন্টিনের বিকল্প উচ্চারণ খুঁজে গুগলে। যারা এর বাংলা পরিভাষা বানায়। যারা প্রবাসে থাইকা অনবরত এলাকার আপডেট দেয়। পরিবারের খবর নেয়। নিজ প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের ছুটি দিয়া দেয়। দ্বিতীয়-সপ্তাহ-থেইকা-সংক্রমণের-ঊর্ধ্বমুখী-কার্ভ শেয়ার করে। যারা ময়লা টাকা ধরা শেষে স্যানিটাইজার হাতড়ায়। যারা হাতে হাত না মিলানোর স্ট্যাটাস দেয়। যারা ঘরে বইসা থাকে। নেটফ্লিক্সে প্যানডেমিক সিরিজ দেখে। দেখে কন্টেইজন বা ব্লাইন্ডনেস সিনেমা। যারা একটিভিজম জাগায়া রাখতে দুনিয়ার-সচেতন-এক-হও গ্রুপ খুলে। যারা নতুন প্রেমে পইড়াও চুমু ও ফোরপ্লে থেইকা নিজেরে বিরত রাখে। যারা চোখ রাখে করোনা-মৃত্যুর স্কোরকার্ডে। যারা শেয়ার করে জিজেকের নজরদারির বিশ্লেষণ। যারা ডাক্তারের কর্তব্য পালন নিয়া সমব্যথী। যারা গণসংক্রমণ-দশার দায় চাপাইতে ইনস্ট্যান্ট ভিলেন বানায় পুঁজিবাদরে, রাষ্ট্রযন্ত্ররে আর প্রশাসনিক প্রতিনিধিদের। যারা স্বাস্থ্য সংস্থার প্রেসনোট সন্দেহ কইরা সারাদিন ক্রসচেক করে। যারা টিকা আবিস্কারের গুজবরে সত্যি ভাইবা নেকি কামাইতে বা জনস্বার্থে আশা দেখায়। যারা করোনা-মুক্তিতে থানকুনি-নিশিন্দা-গরুরমুত বা মোনাজাত-ধরা-জমায়েতের বাইপ্রডাক্ট বিপর্যয় টের পায়। এমনকি, যারা আর সব পেশাগত পরিচয় হারায়া এখন নতুন পরিচয়ে পরিচিত: করোনা-পজিটিভ। সবাই সচেতন। ঠেইকা বা দেইখা। সবাই চিন্তিত। ভীতও।
ভীত না খালি ইলন মাস্ক। নতুন পাইলাম, মুজিব মজমায় কেক কাটা আবু-দুবাইন। নিজের জীবন-শঙ্কারে তুড়ি মাইরা, ব্যানারে-স্লোগানে কত শত যে মুখোশ রাস্তায় নামছে। মুজিববর্ষ দিচ্ছে ডাক, করোনা ভাই নিপাত যাক। কী সাহস, কী অতিভক্তি এক একজনের। আতশবাজি ফুটায়া করোনা-উদাসীনতারে, গত এক শতকে, এমনভাবে আর কে উদযাপন করতে পারছে?
হে মাখলুকাত, খুব তুমি জিতছো!