Skip to main content

Ishtiaque Zico

Field note /

খিল্লির কামাই

করোনার দিনগুলিতেও খিল্লির কামাই নেই। একজনের মন্তব্য। গুরুচন্ডালি ডট কমে।

“খিল্লির কামাই নেই” — আমারে ভাবায়। এইটা কি ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যে বাঙালিদের ব্যবহৃত চলতি কোনো বুলি বা বাগধারা? অধমের জিওকালচারাল অভ্যাসজনিত অজ্ঞতা?

কামাই বুঝি। সংসারের বহু দায় কামাই দিই যেহেতু। আর, এইটাও জানি, কামাই নাউন হয়। যেমন, স্কুল কামাই। আবার ভার্বও। যখন টাকা কামাই। “নেই” মানে নাই। ঠিক আছে। কিন্তু, খিল্লিটা কী?

খুঁজতে গেলাম গুগলে। খ হ্রস্ব-ই ল যোগ গ হ্রস্ব-ই। এন্টার। একটা পত্রিকা পাইলাম। এই সময়। শুভাশিষ আচার্য নামে এক ব্যাটার লেখা পইড়া বুঝলাম, খিল্লি মানে তামাশা। আগেকার দিনের ইয়ার্কি।

কয়েকটা পশ্চিমা উদাহরণ পাইলাম। কেউ জোক বললো/করলো। এইটা খিল্লি। মন্ত্রী মুখ ফসকায়া কিছু বললো। কেউ বলতে পারে, মন্ত্রীত্ব নিয়ে খিল্লি করতেছে। আবার কেউকেটা ব্যাটা দেশের বাইরে উড়াল দিছে। সরকার তাকে ডাকাডাকি করে। তিনি আসতেছেন না। তখন কেউ বলতে পারে, সরকারি আদেশের খিল্লি উড়াইতেছে।

আরও কিছু নতুন খিল্লি পাইলাম। যেমন, WHO-এর গাইডলাইন ফলো কইরা একটা জাতীয় সঙ্গীত বাছাই করছে দুষ্টুরা: ওপারে থাকবো আমি, তুমি রইবে এপারে।

৩ বা ৬ ফুট দূরত্ব বজায় রাখার নির্দেশনা প্রচার করতে গাইতেছে: আমি দূর হতে তোমারেই দেখেছি। আর, কোয়ায়েন্টিনে থাকার সময় গান : তারে বলে দিও, সে যেন আসে না আমার দ্বারে।

পাশাপাশি WHO অনুসারীরা বলতেছে, কিছু গান গাইলে বিপদ বাড়তে পারে। যেমন, এই সুন্দর স্বর্ণালি সন্ধ্যায়, এ কী বন্ধনে জড়ালে গো বন্ধু। অথবা, একটুকু ছোঁওয়া লাগে।

এনাফ। সামারি করি মনে মনে। খিল্লি। বেশ দিল্লি দিল্লি ভাব আছে। তামাশা যেহেতু। মনে থাকবে এখন। “খিল্লির কামাই নেই” একটা মানে কইরা নিলাম : মশকরার শেষ নাই।

তাইলে খিল্লি পানের কী হবে? ওই খিল্লির মানে কী? ইংরেজি পান না, ওই পানসুপারির পান, খিলি পান।

যতসব সিলি ভাবনা। আমি ভাবি। বেশি ভাবলে দুনিয়াটাই মশকরা লাগে। করুণ মশকরা। করোনার দিনেও।